এত এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কখনো কোন প্রকার দু:চিন্তায় থাকবেন না, গ্যারান্টি !
4965 Views

আগামী দিনগুলো কতটা নিষ্ঠুর ও কঠিন হতে যাচ্ছে তা আপনার নিজের চারপাশে ভালোমত চোখ-কান খোলা রেখে অনুধাবন করুন। করোনা পরিস্থিতির কারনে অনেক ছোট, মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যাবে। যাবে বলাটা যৌক্তিক হচেছ না বরং অলরেডি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছি আরো অনেক অনেক পাইপ লাইনে আছে। ফলে কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন প্রচুর মানুষ। একটা অনিশ্চিত জীবন যাপন শুরু করেছে বিশাল একটা সংখ্যা!

গত কয়েকদিন গুঞ্জন শুরু হয়েছে গার্মেন্টস শিল্পও কর্মী ছাঁটাই করবে এবং করবেও। আগ থেকেই হুশিয়ারি দিচ্ছেন গার্মেন্ট সেক্টরের নেতারা। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতির বেশি অবনতি হবে এবং এই দুই জায়গায় শিল্প-কল-কারখানা বন্ধ হবে মানে প্রচুর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। তাদের একটা বড় অংশ গ্রামে ফিরতে বাধ্য হবে কারন কোন উপায়ন্তর থাকবেনা।

অর্থনীতির চাকা অচল হতে বেশি সময় লাগবে না যদি না আমরা নিজেদের জায়গা থেকে সবাই সচেতন না হয়। ভয়ংকর পরিনতির মুখোমুখি না হয়ে বরং আগের থেকেই আমাদের সচেতনতার সাথে এখন থেকেই সময়ের সদ্দ্ব্যবহার করতে হবে।

যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছোট, মাঝারি বা বড় পজিশনে চাকুরি করছি তাদের উচিত নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানকে সার্ভিস দেওয়া। যদি মনে করেন আমি একা এত সুন্দর চিন্তা করে লাভ কি? আরো যারা আছে তারা তো এইভাবে ভাববে না ফাইনালী তো বিপর্যয় আসবেই। আমি বলি ভাই/বোন আপনি আপনার কাজটি করুন। কে কি ভাববে বা করবে আপনি সেদিকে নজর না রেখে আপনার করোনীয় কোন কিছুই থামিয়ে রাখবেন না প্লিজ। পরিবর্তনটা প্রথমে নিজের থেকে শুরু করতে হয়। আপনার পরিবর্তন দেখে অন্যরাও পরিবর্তিত হবে।

যখন আপনি ভালোভাবে চিন্তা করতে পারবেন বা করবেন তখন আপনার আশপাশের মানুষটিও ভালোভাবে চিন্তা করা রপ্ত করতে পারবে এবং করবে।

আর যদি আপনি স্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তা করেন আপনার পাশের মানুষটিও তাই শিখবে ও করবে। স্বার্থকেন্দ্রিকই চিন্তা করতে হবে তবে সেটা ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক হলে এখন চলবে না। এখন চিন্তা করতে হবে সমষ্টিক স্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তা এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে।

তবুও দেখা যাবে আপনার আমার সদ্বিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক শিল্প-প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে! মানে আমি আপনি বা আমরা কর্মহীন হয়ে পড়বো বা পড়তে হবেই। এমন কিছু ঘটার আগেই সময়কে কাজে লাগান।

১। পরিচিত, অল্প পরিচিত যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো পজিশনে বা মোটামুটি পজিশনে আছে তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে দিন। সম্পর্ক উন্নয়ন করুন। আগের থেকেই বলে রাখুন, যদি বিপদে পড়ে যান, একটা চাকুরির ব্যবস্থা যেন তারা করতে পারেন।

২। খরচের উপর এখনি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিন। খুব প্রয়োজনীয় না হলে খরচ করবেন না।

৩। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে পরিবারের ছোট বড় সবার সাথে খোলাখুলি কথা বলুন যেন তারাও বুঝতে পারে আমাদেরকেও খরচের সীমানা প্রাচীর দিতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত বেকাপ না থাকলে বাসা/অফিস ভাড়া কিভাবে কমিয়ে আনা যায় চিন্তা করতে হবে এবং এখনি। প্রয়োজনে এখন একটু ছোট বাসা / ছোট অফিসে উঠুন বা অফিসে নিয়মিত বসতে না পারলে অফিস ছেড়ে দিন।

৫। যাদের সন্তানদের পড়ালেখার খরচের পরিমান বেশি তারা সেদিকেও নজর দিতে হবে। মনে রাখবেন আগে বিপদ থেকে উৎরাতে হবে। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার ভালো স্কুল বা ভালো শিক্ষকের কাছে পড়াতে পারবেন। বাচ্চাদের সাথেও শেয়ার করতে হবে, এখানে লজ্জার কিছু নেই। ওদেরকেও বাস্তবতা বুঝতে / বুঝার সুযোগ দিতে হবে।

আমাদের জানা উচিত প্রতি বছর অন্তত ১০/১৫ লাখ নতুন মানুষ শ্রম বাজারে প্রবেশ করে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যাটা আরো বেশি! বললে ভুল হবে না সেটা দ্বিগুন হয় কখনো কখনো!

যেখানে পুরাতনরাই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সেখানে নতুনদের জন্য কি অপেক্ষা করছে সেটা ‍অনুমেয়। খুব করে সবাইকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন হতে হবে এবং এখনি।

কর্মে আছেন অথবা শ্রম বাজারে প্রবেশ করবেন এমন সব মানুষেরই উচিত একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে সেইভাবে বর্তমানে পথচলা।

মনে রাখা উচিত বর্তমানে আপনি কিভাবে সময়কে ব্যবহার করছেন তার উপরই আপনার ভবিষ্যত গড়ে উঠবে।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোসিং, অনলাইনে আয়, অনলাইনে ক্যারিয়ার যে নামেই সম্মোধন করি না কেন, সেক্টরটা অবশ্যই খুব সম্ভাবনাময়। এই সেক্টরে কোটি মানুষেরও কর্মসংস্থান হবার সুযোগ আছে। তবে তার আগে বিষয়টি সম্পর্কে খুব ভালোমত জেনে নিতে হবে। এই সেক্টরের বেশ কিছু জনপ্রিয় কাজের মধ্যে রয়েছে ওয়েব ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ইউ/আই-ইউ/এক্স ডিজাইন, এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এ্যামাজন এ্যাফিলিয়েট, ব্লগিং সহ অনেক অনেক কাজের ক্ষেত্র।

যারা সচেতন তাদের উচিত উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোমত জেনে যেকোন একটি বা রিলেটেড ২ টি বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সময় ও মেধা বিনিয়োগ করা। অনলাইনে প্রচুর পরিমান রিসোর্স বা টিউটোরিয়াল আছে গুগল করে সেগুলো বের করে দেখা ও প্রাক্টিস করার অভ্যাস তৈরী করা। এছাড়াও বাংলাদেশে যারা এই সেক্টরে কাজ করেন যদি আপনাদের তাদের সাথে কমবেশি পরিচয় থেকে থাকে তাদের সাথে পরামর্শ ও গাইড লাইনও নিতে পারেন যে, কিভাবে কি করলে আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের জন্য দারুন কিছু হবে। এই পরামর্শকে আমরা কাউন্সিলিং বলে থাকি। এটা খুবই দরকারি এবং কার্যকরি একটি পদক্ষেপ হবে আপনার জন্য।

আপনার বর্তমান সবকিছু ঠিক রেখেই আপনি যদি প্রতিদিন অন্তত ৩/৪ ঘন্টা সময় বের করতে পারেন তাহলে আমরা পরামর্শ দিবো বা আপনারই উচিত উপরের যেকোন একটি বিষয়ে এখন থেকেই দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সময়, পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয় ঘটানো।

এতে করে এত এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কখনো কোন প্রকার দু:চিন্তায় থাকবেন না, গ্যারান্টি দেওয়া যায়।

প্রথমত কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে একটা বেসিক ধারনা নেওয়া খুব উত্তম। করোনা পরিস্থিতির কারনে আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করছি ফলে আপনারা চাইলে আমাদের সাথে অভার ফোনে কাউন্সিলিং করে নিতে পারেন। কাউন্সিলিং করতে ফোন করুন 01755 670 545 এই নম্বরে অথবা আমাদের ফেইসবুক পেজে ইনবক্স করতে পারেন। ফোন করাই বেশি যৌক্তিক। কারন লিখে লিখে কোন বিষয়ে পরিস্কার ধারনা দেওয়া সিরিয়াসলী টাফ্‌ কাজ।

অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা এত কষ্ট করে ব্লগটি পড়ার জন্য।

যদি ব্লগটি উপকারী মনে হয় অবশ্যই আপনার ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

শুভেচ্ছা নিরন্তর!